গাজা পরিস্থিতির প্রভাব

ইসরায়েলি শেয়ার বিক্রি করবে শীর্ষ বিনিয়োগ তহবিল

গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কোম্পানি থেকে আগের তুলনায় বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে নরওয়ে’স সভরেন ওয়েলথ ফান্ড।

গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কোম্পানি থেকে আগের তুলনায় বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে নরওয়ে’স সভরেন ওয়েলথ ফান্ড। ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি ডলারের সম্পদ পরিচালনা করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ সার্বভৌম তহবিল।

সিএনএনের এক প্রতিবেদন অনুসারে, সংস্থাটি এরই মধ্যে ইসরায়েলে বিনিয়োগ পরিচালনা করে এমন কিছু ব্যাবস্থাপকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। গাজার ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের কারণে ইসরায়েলের শেয়ারবাজারে থাকা পোর্টফোলিওর কিছু অংশ বিক্রি করে দিয়েছে তারা।

নরগেস ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের (এনবিআইএম) মাধ্যমে পরিচালিত হয় এ সার্বভৌম তহবিল। ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের আয়ত্তে ৬১টি ইসরায়েলি কোম্পানির শেয়ার ছিল। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে ১১টি প্রতিষ্ঠান তাদের শেয়ার বিক্রি করেছে। তবে ইসরায়েলি জেট ইঞ্জিন নির্মাতা বেট সেমেশ হোল্ডিংস (বিএসইএল) ছাড়া বাকি কোম্পানিগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এনবিআইএমের প্রধান নির্বাহী নিকোলাই ট্যাঙ্গেন জানান, শিগগিরই আরো বেশি ইসরায়েলি কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে পারে নরওয়ের সার্বভৌম তহবিল।

তিনি আরো জানান, গাজায় ইসরায়েলি হামলার শুরুর প্রায় এক মাস পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে তহবিলটি একটি বহিরাগত ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে বিএসইএলে বিনিয়োগ শুরু করে। তবে ওই পোর্টফোলিও ম্যানেজারের নাম অপ্রকাশ্য রাখা হয়েছে।

এর পর থেকে প্রতি প্রান্তিকে বিএসইএলের সঙ্গে বৈঠক করেছে এনবিআইএম। তবে গাজায় চলমান যুদ্ধ কখনো তাদের আলোচনার বিষয় ছিল না। এ প্রসঙ্গে নিকোলাই ট্যাঙ্গেন বলেন, ‘গাজার যুদ্ধ নয়, আমরা তাদের সঙ্গে মার্কিন ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করেছি।’

তিনি আরো জানান, নৈতিক উদ্বেগের দিক থেকে বিএসইএলে বিনিয়োগের শুরুতে ‘মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ’ শেয়ার হিসেবে রেটিং দেয়া হয়েছিল। তবে মে মাসে তা পুনর্মূল্যায়ন করে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ রেটিংয়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ পরিবর্তন আরো দ্রুত হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন নিকোলাই ট্যাঙ্গেন। সঙ্গে এও জানান, আগে থেকেই ইসরায়েলি বিনিয়োগগুলোকে আরো কঠোর নজরদারিতে রাখা উচিত ছিল এনবিআইএমের।

নিকোলাই ট্যাঙ্গেন বলেন, ‘ইসরায়েলি বিনিয়োগগুলো আরো দ্রুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা উচিত ছিল আমাদের।’

জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলন থেকে প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় রাজস্ব এ তহবিলের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে নরওয়ে। গড়ে বিশ্বের সব তালিকাভুক্ত শেয়ারের ১ দশমিক ৫ শতাংশের মালিক এ তহবিল। বন্ড, রিয়েল এস্টেট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পেও বিনিয়োগ করে সংস্থাটি।

গত মঙ্গলবার নরওয়ের সার্বভৌম তহবিলটি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ৬৯ হাজার ৮০০ কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোন বা ৬ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার মুনাফা করেছে তারা। এতে সামগ্রিক রিটার্নের নাম ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, যা তাদের প্রত্যাশিত সূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরও